বাংলার জনকল্যাণ ও মানবসেবার ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম রণদা প্রসাদ সাহা (আর.পি. সাহা)। ১৮৯৬ সালের ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে জন্ম নেওয়া এই সমাজসেবক দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে ব্যবসায় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নিজের সম্পদ ব্যয় করেন।
মা কুমুদিনীর স্মরণে ১৯৪৭ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। এর আগে ১৯৩৮ সালে মির্জাপুরে প্রতিষ্ঠা করেন কুমুদিনী হাসপাতাল। নারীশিক্ষার প্রসারে ১৯৪৩ সালে কুমুদিনী কলেজ এবং ১৯৪৫ সালে ভারতেশ্বরী হোমস প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা অপহরণ করে। বিভিন্ন সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ৭ মে তাঁদের আবার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর দুজনের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাঁদের মরদেহও উদ্ধার হয়নি।
জনসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রণদা প্রসাদ সাহাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয় ১৯৭৮ সালে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ট্রাস্ট পরবর্তীকালে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
রণদা প্রসাদ সাহার জীবন তাই শুধু একজন শিল্পপতির জীবনী নয়; এটি মানুষের জন্য সম্পদ ও সামর্থ্য উৎসর্গ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।


