রাজধানীর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়েছে। একই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আবেদনটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারীফ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভবনের প্রধান ফটক ভেঙে একটি দল ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর অভিযোগ অনুযায়ী, তৎকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উসকানি, দায়িত্বহীনতা এবং নির্দেশনায় বুলডোজার ব্যবহার করে ঐতিহাসিক ভবনটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে শুধু একটি ভবন নয়, মুক্তিযুদ্ধ ও রাষ্ট্রের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূল্যবান দলিল, স্মৃতিচিহ্ন ও বিভিন্ন সম্পদ ধ্বংস এবং লুটপাট করা হয়েছে। ভবনটিতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও আনা হয়েছে।

মামলায় ড. ইউনূস ও ড. আসিফ নজরুল ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসান, শফিকুল আলম, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলমসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় ছাত্র-সমন্বয়ক, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ এবং বুলডোজার সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও রয়েছে।

বাদীপক্ষের অভিযোগ, ঘটনাটি আকস্মিক কোনো সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ ছিল না; বরং পরিকল্পিতভাবে একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে- এত বড় একটি ধ্বংসযজ্ঞ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে সংঘটিত হলেও তৎকালীন প্রশাসন কেন তা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি এবং কার নির্দেশ বা প্রশ্রয়ে ঘটনাটি ঘটেছিল।

আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর ন্যস্ত ছিল, মামলার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তাদের ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সামনে আসবে। কারণ একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা কেবল সম্পদহানির অভিযোগ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জাতীয় ইতিহাস, রাজনৈতিক স্মৃতি এবং রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্য।

মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ৩৭৯, ৩৮০, ৩৯৫, ৪২৭, ৪৩৫, ৪৩৮, ৪৪৮, ৪২০, ৫০৬ ও ৫০৭ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৪ ধারা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধ আমলে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদনও জানানো হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version