জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাবে দেশের নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে আটা-ময়দার দাম আরেক দফা বেড়েছে; সামনে চাল, ডিমসহ আরও কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজারে করা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত আটা ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটার দাম ৫০-৫৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকা। টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার দাম ৪ শতাংশ এবং ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর দূরপাল্লার পণ্য পরিবহনে ট্রাকভাড়া বেড়েছে। একজন চাল ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ১৫ টন চাল ঢাকায় আনতে ট্রাকভাড়া দুই দিনের ব্যবধানে ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাড়তি পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারে চালের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।
ডিমের বাজারেও চাপ রয়েছে। রাজধানীতে ফার্মের বাদামি ডিমের এক ডজন ১৬০ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে সামনে রেখে আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম সম্প্রতি লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে আমদানি করা ফলের দামও ঊর্ধ্বমুখী- মালটা ও কমলা কেজি ৪২০-৪৫০ টাকা, আপেল ৩৪০-৩৬০ টাকা এবং লাল আঙুর ৪০০-৪৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এসব মূল্যবৃদ্ধির পেছনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবের কথা বলছেন।
ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব থাকলেও তার সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পণ্যের দামে যতটুকু প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে এবং বাজার তদারকি আরও কঠোর করা হবে।


