বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) মাঠপর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য এবং হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংস্থাটির নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে পৃথক ‘উইমেন হ্যারাসমেন্ট প্রিভেনশন সেল’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির নারী কর্মকর্তারা।

সংস্থাটির সাবেক এক নারী বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা উচ্চশিক্ষার জন্য বর্তমানে সুইডেনে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রকাশিত ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে সাবেক কয়েকজন সহকর্মী ‘সংগ্রাম সৈনিকদের সঞ্চয়’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কুরুচিপূর্ণ ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন।

গত ১১ই আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে ওই নারী কর্মকর্তা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে ট্যাগ করেন। তাঁর দাবি, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তাঁর শরীর, দাম্পত্য জীবন ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে আপত্তিকর আলোচনা করা হয়। গ্রুপের কিছু স্ক্রিনশট হাতে পাওয়ার পর তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেন।

অভিযোগের পর রাজশাহীর নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামাণিক, সিলেটের সৈয়দ সারফরাজ হোসেন, জামালপুরের আবু নাসের মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, রংপুরের মো. লোকমান হোসেন, মৌলভীবাজারের মো. শাকিব হোসাইন, বিএফএসএর সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাকিল আহম্মেদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানদের কাছে ই-মেইলে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী।

এদিকে, গত ১১ আগস্ট বিএফএসএর চেয়ারম্যানের কাছে সাত নারী কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। এতে ওই বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার অভিযোগের পাশাপাশি বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়ের আরেক নারী কর্মীর তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

ওই ঘটনায় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে স্থায়ী ‘উইমেন হ্যারাসমেন্ট প্রিভেনশন সেল’ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে চিন্ময় প্রামাণিক ও সৈয়দ সারফরাজ হোসেন এর আগে ‘ব্যাড বয়েজ’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই গ্রুপের সদস্যরা সেমিনারের কথা বলে সরকারি অর্থে বিএফএসএর প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে নিয়ে সিলেটে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

এ ছাড়া অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তার ‘নবভূমির সংগ্রাম’ নামে আরেকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে। ওই গ্রুপের আলোচনায় বগুড়ায় ২৪ কাঠা জমি কেনার বিষয় উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৪ জুন জমি রেজিস্ট্রির জন্য কয়েকজন কর্মকর্তা নিজ নিজ কর্মস্থল থেকে ছুটি না নিয়েই বগুড়ায় যান।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী তাঁর নারী সহকর্মীর প্রতি এমন ভাষা বা আচরণ করতে পারেন না, যা অশোভন, দাপ্তরিক শালীনতাবিরোধী কিংবা তাঁর মর্যাদাহানিকর।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, সহকর্মীর চরিত্রহনন, ডিজিটাল মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ আলোচনা কিংবা অশালীন মন্তব্য অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version