নেপালের ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে দীর্ঘ নয় দিনের অভিযান শেষ করেছে উদ্ধারকারী দল। শুক্রবার সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে তল্লাশি চালানোর পর উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, সেখানে আর কোনো জীবিত কিংবা মৃত শ্রমিক আটকে নেই।
উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা জানান, আকস্মিক বন্যার পানির প্রবল চাপ ও স্রোতে সুড়ঙ্গটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গা কাদা, মাটি ও পাথরে সম্পূর্ণভাবে চাপা পড়ে গেছে। কোথাও কোথাও সুড়ঙ্গের ছাদ ধসে পড়ায় ভেতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উদ্ধারকারীরা ধাপে ধাপে সুড়ঙ্গের গভীরে প্রবেশ করে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত তল্লাশি চালান।
এর আগে টানা নয় দিন নিখোঁজ থাকার পর একই সুড়ঙ্গ থেকে সঞ্জয় শাহ ও কবীর মহারাজন নামে দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর তাদের উদ্ধার ঘিরে স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। উদ্ধারের পর দুজনের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়।
তবে উদ্ধার অভিযানের মধ্যেই একই সুড়ঙ্গ থেকে আরও এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে সেখানে আটকে পড়া শ্রমিকদের ভাগ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উৎকণ্ঠা ছিল। শুক্রবার শেষ দফার তল্লাশিতে আর কোনো শ্রমিকের সন্ধান না পাওয়ায় ওই সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করা হয়েছে।
নেপালের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল স্রোত, ভূমিধস এবং যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে। এখনো দেশটির বিভিন্ন স্থানে বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


