পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় পরপর দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। শনিবার ওয়াজির উপবিভাগের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা মারকা বেরায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেশটির নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

জেলা পুলিশ কর্মকর্তা ইয়াসির আফ্রিদি জানিয়েছেন, প্রথম বিস্ফোরণটি ডোমেলের দিকে যাওয়ার পথে একটি যাত্রীবাহী গাড়িকে লক্ষ্য করে ঘটানো হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে গাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, প্রথম বিস্ফোরণের পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় মাত্র এক কিলোমিটার দূরে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আরও দুইজন নিহত হন এবং উদ্ধারকারীদের বহনকারী গাড়িটিও ধ্বংস হয়ে যায়। এ ধরনের হামলা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সংগঠিত তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকা ঘিরে ফেললেও স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকত, তাহলে একই এলাকায় এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি বিস্ফোরণ কীভাবে ঘটল?

রেসকিউ ১১২২-এর সদস্যরা নিহতদের মরদেহ ও আহতদের ডোমেল রুরাল হেলথ সেন্টার এবং খলিফা গুল নাওয়াজ টিচিং হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এদিকে অতিরিক্ত বিস্ফোরকের আশঙ্কায় পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাইবার পাখতুনখোয়া ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একের পর এক হামলার ঘটনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকটকে আরও গভীর করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে এবং সরকারের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার হামলার ঘটনা ঘটলেও টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই জোড়া বিস্ফোরণ আবারও প্রমাণ করল, সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবিলায় পাকিস্তান এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version