পাকিস্তানের অস্থিতিশীল বেলুচিস্তান প্রদেশে আবারও বড় ধরনের আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। খুজদার শহরে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) নেতা ও ঝালাওয়ান প্যানেলের সভাপতি শফিকুর রহমান মেঙ্গালের বাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে শাহজাদ টাউন এলাকায় বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী মেঙ্গালের বাড়ির প্রধান ফটকে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির প্রধান ফটক, সীমানাপ্রাচীর এবং ভবনের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং আশপাশের বহু ভবনের জানালার কাচ ভেঙে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পরপরই আরও কয়েকটি বিস্ফোরণ ও ভারী অস্ত্রের গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারীদের সঙ্গে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তীব্র গোলাগুলি চলে। এ সময় রকেট লঞ্চার, গ্রেনেড এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে শফিকুর রহমান মেঙ্গালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরাও রয়েছেন। পাল্টা অভিযানে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন আত্মঘাতী হামলাকারী ছিল।
ঝালাওয়ান প্যানেলের মুখপাত্র ও সাধারণ সম্পাদক নাদিমুর রহমান বলেন, শফিকুর রহমান মেঙ্গাল হামলা থেকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে বেরিয়ে এসেছেন। তবে বিস্ফোরণ ও গোলাগুলিতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছে।
হামলার পরপরই পুলিশ ও সেনাবাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। আহতদের খুজদার টিচিং হাসপাতাল ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই হাসপাতালেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে খুজদারজুড়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংস কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রদেশটিতে আত্মঘাতী হামলা, বোমা বিস্ফোরণ এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই সর্বশেষ হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
দৈনিক দ্য ডন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


