গ্রামের পুরোনো রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কারে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘিরে ব্যয়ের বিভিন্ন খাত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় পুরোনো সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কম্পিউটার, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে পরামর্শক নিয়োগে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখাকে কেন্দ্র করে।

প্রকল্পের আওতায় দেশের ৫ হাজার ২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৭ হাজার মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার কিলোমিটার পুরোনো সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার সড়ক সংস্কারে গড়ে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের ব্যয় প্রস্তাবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ৮০টি কম্পিউটার কেনার জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা এবং সফটওয়্যারের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি। একই সঙ্গে ৬৪টি রোড রোলার, ১৪০টি মোটরসাইকেল ও দুটি জিপ কেনার প্রস্তাবের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব যানবাহনের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় প্রায় ৭৭ কোটি টাকা।

এ ছাড়া যানবাহন পরিচালনা ও মনিহারি সামগ্রী বাবদ আরও প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা রাখার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

রাস্তা ও কালভার্ট সংস্কারের মতো অবকাঠামো প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের জন্য ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার বিষয়টি নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের মূল কাজ যখন গ্রামীণ সড়ক ও কালভার্ট পুনর্বাসন, তখন এত বড় অঙ্কের পরামর্শক ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কতটা?

সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ প্রকল্পে কম্পিউটার ও গাড়ি কেনার বরাদ্দকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের ব্যয় সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন ও অর্থ সাশ্রয়ের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

পুরোনো গ্রামীণ সড়ক সংস্কারের ব্যয়। ৫ হাজার কিলোমিটার সড়কের জন্য ৩ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা ধরা হলে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৮ লাখ টাকা।

তবে প্রকল্পের ব্যয়কে সরাসরি দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয়খাতের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হয়েছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের অর্থ ব্যয় হয়। তাই প্রতিটি খাতে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এবং সেই অর্থের প্রয়োজনীয়তা কী- তা পরিষ্কার থাকা জরুরি।

বিশেষ করে রাস্তা সংস্কারের মতো সরাসরি জনসম্পৃক্ত প্রকল্পে মূল কাজের তুলনায় পরামর্শক, যানবাহন, কম্পিউটার ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version