ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রকাশ্য দিবালোকে ভয়াবহ ছুরি হামলার ঘটনায় তিন নারী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। হামলার সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বারবার চিৎকার করে বলেন, “আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন।” এ ঘটনার পর এটি সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় প্যারিসের পোর্ত দ্য ক্লিশি (Porte de Clichy) এলাকায় ব্যস্ত সড়কে হামলাটি ঘটে। আহত নারীদের বয়স যথাক্রমে ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর একজনও আহত হলেও তাঁর অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরি হাতে হামলাকারী আচমকাই নারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উপস্থিত সাধারণ মানুষ এবং দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন এবং পুলিশ আসা পর্যন্ত আটকে রাখেন। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারী জিজ্ঞাসাবাদের সময় অসংলগ্ন ও এলোমেলো বক্তব্য দিয়েছেন। তাই তার মানসিক অবস্থা, সম্ভাব্য উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য-সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফ্রান্সের সন্ত্রাসবিরোধী প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার সময় দেওয়া বক্তব্য এবং ঘটনার অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এটি সন্ত্রাসবাদ হিসেবে তদন্ত করা হবে কি না।

এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ব্যস্ত নগরীর মাঝখানে এমন প্রকাশ্য হামলা ফ্রান্সের জননিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা এর পেছনের কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version