ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্টটি ইতোমধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতি নিশ্চিত করে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি দর্শকসমৃদ্ধ বিশ্বকাপে পরিণত হয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, নকআউট পর্ব পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অটুট থাকা ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ শুরু থেকেই ছিল ব্যতিক্রমী। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণ, আধুনিক ও বৃহৎ ধারণক্ষমতার স্টেডিয়াম এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের বিপুল আগ্রহ মিলিয়ে প্রতিটি ম্যাচই পরিণত হয়েছে মহোৎসবে।
ফিফার হিসাব অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি দর্শক মাঠে বসে খেলা উপভোগ করেছেন। ফলে দর্শক উপস্থিতির বিচারে ২০২৬ বিশ্বকাপ এখন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল আসর। আয়োজকরা বলছেন, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে এই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ভেন্যুতেই দেখা গেছে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়। নিউইয়র্ক থেকে মেক্সিকো সিটি, ডালাস থেকে টরন্টো- প্রতিটি শহর যেন রূপ নিয়েছে ফুটবলের রাজধানীতে। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে নানা দেশের পতাকা, গান, উল্লাস ও রঙিন উপস্থিতি তৈরি করেছে এক অবিস্মরণীয় পরিবেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৮ দলের সম্প্রসারিত ফরম্যাট নিয়ে শুরুতে প্রশ্ন থাকলেও বাস্তবে সেটিই বিশ্বকাপকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। নতুন দেশগুলোর অংশগ্রহণ যেমন বৈশ্বিক আগ্রহ বাড়িয়েছে, তেমনি উত্তর আমেরিকার বিশাল অবকাঠামো দর্শকসংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আলোচনায় রয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের প্রায় প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত থেকে তিনি যেন নিজেই হয়ে উঠেছেন টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনোর স্থায়ী ঠিকানা যেন স্টেডিয়ামই।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু দর্শকসংখ্যার নতুন রেকর্ডই গড়েনি; এটি প্রমাণ করেছে যে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটির আবেদন এখনও সীমাহীন। দর্শকদের এই অভূতপূর্ব সাড়া ফুটবলের বৈশ্বিক শক্তি ও জনপ্রিয়তার নতুন বার্তা বহন করছে।
নকআউট পর্বের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখনই ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে নিজের নাম লিখে ফেলেছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। সামনে ফাইনালসহ আরও কয়েকটি ম্যাচ বাকি থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, দর্শক উপস্থিতির এই রেকর্ড এমন উচ্চতায় পৌঁছাবে যা আগামী বহু বছর ধরে ভাঙা কঠিন হবে।


