যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য-শুল্ক সুবিধার তালিকায় বাংলাদেশ, বিরল রোগ থেকে সেল-জিন থেরাপির ওষুধে মিলবে বিশেষ সুবিধা
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতিতে বাংলাদেশকে বিশেষায়িত ওষুধের জন্য শূন্য শুল্ক বা ১০০ শতাংশ শুল্ক থেকে মুক্তির যোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রাখা হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটি (BIS) ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নোটিশে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের মতো তালিকাভুক্ত দেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট শ্রেণির বিশেষায়িত ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ক্ষেত্রে শুল্কহার শূন্য শতাংশ হতে পারে। তবে এটি সব ধরনের ওষুধের জন্য প্রযোজ্য নয়; নির্ধারিত পণ্য ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই এ সুবিধা কার্যকর হবে।
যেসব ওষুধে মিলবে শুল্কমুক্ত সুবিধা
মার্কিন সরকারের তালিকায় থাকা বিশেষায়িত পণ্যের মধ্যে রয়েছে- বিরল রোগের (অরফান) ওষুধ, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, রক্তের প্লাজমা থেকে উৎপাদিত চিকিৎসা, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, সেল থেরাপি, জিন থেরাপি এবং অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (ADC)।
এ ছাড়া রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহৃত বিশেষ চিকিৎসা উপাদান এবং প্রাণিচিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধও এই শূন্য-শুল্ক কাঠামোর আওতায় আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল ও উপাদানের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে।
২০ দেশ ও অঞ্চলের তালিকায় বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের শূন্য-শুল্ক সুবিধার জন্য যোগ্য তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে আর্জেন্টিনা, ভারত, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড ও লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং ভিয়েতনাম।
এই সুবিধার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট বিশেষায়িত ওষুধ শূন্য শুল্কে প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমান বা সম্ভাব্য বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো অথবা যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি স্বাস্থ্যচাহিদা পূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সাধারণ পেটেন্ট ও জেনেরিক ওষুধে কী হবে?
তবে এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের সব ধরনের ওষুধের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মার্কিন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট তালিকায় থাকা পেটেন্টযুক্ত ওষুধ ছাড়া অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে আলাদা শুল্কনীতি কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে জেনেরিক ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদান বর্তমানে সেকশন ২৩২-এর এই শুল্কের আওতায় রাখা হয়নি। মার্কিন সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে সম্ভাবনার নতুন দরজা
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাজার। বিশেষায়িত ওষুধের নির্দিষ্ট শ্রেণিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়ায় বাংলাদেশি উৎপাদকদের জন্য মার্কিন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্কজনিত চাপ কমতে পারে। বিশেষ করে উচ্চমূল্যের বিশেষায়িত ওষুধ ও চিকিৎসা উপাদানের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত রপ্তানি সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
এর আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতেও ওষুধ ও মেডিকেল পণ্যের বাণিজ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই চুক্তিতে বাংলাদেশে মার্কিন ওষুধ ও মেডিকেল ডিভাইসের বাজার প্রবেশ সহজ করার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
ফলে নতুন শূন্য-শুল্ক তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি দেশটির ওষুধশিল্পের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষায়িত ওষুধ রপ্তানি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সুবিধাটি নির্দিষ্ট পণ্য, শর্ত ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।


