ইসলামপন্থী শক্তির উত্থান, জামায়াতের প্রভাব ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনারের
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশ ছাড়ার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব আরও দৃশ্যমান হয়েছে এবং এর সঙ্গে পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রভাবকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সম্প্রতি ভারতের সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন বীণা সিক্রি। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জামায়াতের উত্থান, পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেন তিনি।
বীণা সিক্রির ভাষ্য, ২০২৪ সালে কথিত বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে, সেটিকে কেবল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন হিসেবে দেখলে পুরো ঘটনাপ্রবাহের ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে না। তাঁর দাবি, এর পেছনে একটি পরিকল্পিত সরকার পরিবর্তনের প্রক্রিয়া কাজ করেছে। তিনি মনে করেন, ওই পরিবর্তনের পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী শক্তিগুলো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে।
তাঁর বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ বিশেষভাবে উঠে আসে। বীণা সিক্রির মতে, জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততাকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ইসলামপন্থী শক্তিগুলোকে রাজনৈতিকভাবে আরও বিস্তৃত সুযোগ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণেও তাদের প্রভাব বাড়তে পারে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সতর্ক করে সাবেক এই ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, ইসলামপন্থী শক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে রাজনৈতিক পরিসর দেওয়ার মাধ্যমে তিনি ‘আগুন নিয়ে খেলছেন’। ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থী শক্তিগুলোর অবস্থান গভীরভাবে শক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ‘পাকিস্তান ২.০’-এর দিকে এগোচ্ছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবেও বীণা সিক্রি জামায়াতের প্রভাব ও পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ইসলামিক রাষ্ট্র চায়- এমনটি তিনি বিশ্বাস করেন না।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাবেক এই হাইকমিশনার। তাঁর আশঙ্কা, রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে ইসলামপন্থী প্রভাব বাড়তে থাকলে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন বীণা সিক্রি। তাঁর মতে, ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলোর কিছু প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
এর আগে বিভিন্ন বক্তব্য ও লেখাতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, জামায়াতে ইসলামীর উত্থান এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মত দিয়েছেন বীণা সিক্রি। চলতি বছর তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও লিখেছেন।
২০০৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বীণা সিক্রি বাংলাদেশের রাজনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়ে নিয়মিত মন্তব্য করে আসছেন।


