সীমান্ত উত্তেজনার পর বরফ গলছে ভারত-চীন সম্পর্কে, দিল্লিতে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছেন দুই নেতা
ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনেই মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার এই হাই-ভোল্টেজ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ঘিরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাত বছর পর ভারত সফরে আসছেন শি জিনপিং। লাদাখ সীমান্তে সামরিক সংঘাত ও দীর্ঘদিনের তীব্র টানাপোড়েনের পর ভারত-চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে উদ্যোগ শুরু হয়েছে, শির দিল্লি সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠককে তারই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুধু শি জিনপিং নয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করবেন মোদি। ফলে সম্মেলনের প্রথম দিনেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্য দিয়ে দিল্লি কার্যত পরিণত হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে।
মোদি ও শির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে। এর আগে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) ঘিরে দীর্ঘদিনের সামরিক অচলাবস্থা নিরসনে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর ধীরে ধীরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বরফ গলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
গত আগস্টে তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকেও দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেছিলেন। এর আগে বিশকেকে এসসিও সম্মেলনের বার্ষিক পারিবারিক ছবির সময়ও তাদের সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করতে দেখা যায়।
তবে শি জিনপিংয়ের এবারের ভারত সফরের তাৎপর্য আরও গভীর। ২০১৯ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম ভারতের মাটিতে পা রাখছেন চীনা প্রেসিডেন্ট। সে সময় তামিলনাড়ুর মামাল্লাপুরমে মোদির সঙ্গে দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।
এর মাত্র কয়েক মাস পরই লাদাখ সীমান্তে চীনা সেনাদের অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। সীমান্ত সংঘাতের জেরে ভারত-চীন সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছায়।
সেই উত্তেজনার দীর্ঘ ছায়া পেরিয়ে এবার নয়াদিল্লিতে মোদি-শি মুখোমুখি হচ্ছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে দুই দেশের অবস্থান- সব মিলিয়ে বৈঠকটি ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম হাই-ভোল্টেজ কূটনৈতিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত ও চীনের সম্পর্কের পরিবর্তন, রাশিয়ার সঙ্গে দুই দেশের কৌশলগত যোগাযোগ এবং ব্রিকসের সম্প্রসারিত ভূমিকায় মোদি-শি বৈঠক নতুন কোনো কূটনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।


