ঢাকার অনুরোধে সাড়া মেলেনি বলে দাবি; জাহেদ-উর-রহমানের সফর নিয়েও তৈরি হয় জটিলতা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের জন্য ভিসার অনুরোধ জানানো হলেও মার্কিন দূতাবাস এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের জন্য ভিসার অনুরোধ জানায়। এতে জানানো হয়, ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এরপরই তৈরি হয় জটিলতা।

জাতিসংঘের কর্মসূচির বাইরে সান ফ্রান্সিসকোতে একটি সরকারি কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু ওই কর্মসূচির বিষয়ে মার্কিন পক্ষ থেকে অনুমোদন বা সাড়া না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সফরসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়।

মার্কিন অনুমোদন না পাওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর সফর মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্মসূচিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে। নিউইয়র্কে বিভিন্ন বৈঠক ও পার্শ্বকর্মসূচি রাখা হলেও প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নির্ধারিত কিছু কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ হয়নি।

একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নীতি, কৌশল, তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর জন্যও ভিসার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তাঁর যুক্তরাষ্ট্র সফরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এর আগে ভারতের দিল্লি সফরের সময়ও ইমিগ্রেশন জটিলতায় পড়েছিলেন জাহেদ। পরে তাঁকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি সফর বাতিল করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছিল বলে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে আলেকজান্ডার সোরোসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাক্ষাতের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

২৭ আগস্ট আলেকজান্ডার সোরোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এবং পৃথক একটি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা যায়।

তবে এই সাক্ষাৎ বা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে প্রতিবেদনে যেসব কূটনৈতিক দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে দুবাই হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ফেরেন তিনি। কিন্তু সফরের কর্মসূচি কেন শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা হলো, ঢাকার পাঠানো ভিসা অনুরোধের জবাব কী ছিল এবং জাহেদ-উর-রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর কেন বাস্তবায়িত হয়নি- এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

ফলে ভিসা অনুরোধ, মার্কিন দূতাবাসের নীরবতা এবং সফরসূচির আকস্মিক পরিবর্তন- এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই এখন কূটনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version