বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের খেলা এখনো শেষ হয়নি। প্রতিটি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও গোল্ডেন বুটের লড়াই ইতোমধ্যেই তুঙ্গে উঠেছে। আর সেই লড়াইয়ের শীর্ষে রয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
দুই ম্যাচে ৫ গোল করে বর্তমানে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও জোড়া গোল করে নিজের অসাধারণ ফর্মের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার মোট গোলসংখ্যা এখন ১৮, যা তাকে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে।
তবে মেসির এই রাজত্বের দিকে চোখ রেখে এগিয়ে আসছেন ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের গোলমেশিন আরলিং হল্যান্ড। বিশ্বকাপে ১৬ গোল করে এমবাপ্পে ইতোমধ্যেই মেসির রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। অন্যদিকে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা হল্যান্ডও গোলের পর গোল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জমিয়ে তুলেছেন।
তবুও এই মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মেসিই। কারণ, তিনি শুধু গোল করছেন না, দলের সাফল্যেরও প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে যেন নিজের সেরা ফুটবলটাই উপহার দিচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি।
এদিকে সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোল এবং ইরাকের বিপক্ষেও জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন হল্যান্ড। জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করে তিনি ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নাম লিখিয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনও। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনিও আলোচনায় উঠে এসেছেন।
তবে সব হিসাব-নিকাশের শেষে এখনো একটি নামই সবচেয়ে উজ্জ্বল-লিওনেল মেসি। এমবাপ্পে ও হল্যান্ড যতই চাপ সৃষ্টি করুন না কেন, বিশ্বকাপের গোলের মঞ্চে এখনো সবার ওপরে অবস্থান করছেন আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচগুলো সামনে। তাই গোল্ডেন বুটের দৌড়ে নতুন নাটকীয়তা যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় বলা যায়, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গোলের সিংহাসন এখনো মেসির দখলেই।


