মেহেরপুর শহরের লর্ড মার্কেট এলাকায় গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকে এক তরুণীর ডান হাত কুপিয়ে কবজির ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সায়ন আলী নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার বাবা ও মাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও পরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ২টার মধ্যে শহরের লর্ড মার্কেট এলাকার প্রধান সড়কের পাশে ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সেলিম হোসেনের বাড়িতে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—সেলিম হোসেন, তাঁর স্ত্রী রেবেকা খাতুন এবং তাঁদের মেয়ে স্মৃতি।
গভীর রাতে সায়ন বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে স্মৃতির কক্ষে যান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর ডান হাত কবজির ওপর থেকে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্মৃতির চিৎকার শুনে তাঁর বাবা-মা ছুটে এলে হামলাকারী তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে সেলিম হোসেনের পিঠে এবং রেবেকা খাতুনের বাম হাতে গুরুতর জখম হয়। পরে অভিযুক্ত দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, স্মৃতি এসএসসি পরীক্ষার্থী। পথে বের হলে সায়ন তাঁকে প্রায়ই বিরক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাবে রাজি করানোর জন্য চাপ ও হুমকি দিতেন। বিষয়টি স্মৃতি তাঁর বাবাকে জানালে সেলিম হোসেন সায়নের বাবার কাছেও অভিযোগ করেন। এরপরও হয়রানি বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের দাবি। তবে হামলার প্রকৃত কারণ পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করবে।
ঘটনার সময় চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। প্রতিবেশীদের একজন জানান, তাঁরা বাড়ি থেকে এক যুবককে পালিয়ে যেতে দেখেন। পরে ঘরে গিয়ে স্মৃতিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে এবং তাঁর বিচ্ছিন্ন হাত মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা ধারালো দা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের ঢাকায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। প্রথমদিকে অভিযুক্ত সায়নকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হলেও পরে বুধবার সকালে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, আহতদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ নেওয়া হয়েছে এবং হামলায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


