যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে ভয়াবহ ধারাবাহিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের বহনকারী এক উবার চালকও রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে ২২ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ। তাকে সশস্ত্র ও অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শহরের প্রায় পাঁচ মাইলজুড়ে অন্তত পাঁচটি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিনটি হামলা হয় ইন্টারস্টেট-৭০ ও ইন্টারস্টেট-৬৭০ মহাসড়কে। ঘটনাস্থলগুলো আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়া অ্যারোহেড স্টেডিয়াম থেকে প্রায় চার মাইল দূরে অবস্থিত।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুই আর্জেন্টাইন সমর্থক জানান, তারা উবারে করে স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় একটি গাড়ি তাদের পাশে এসে হঠাৎ দুটি গুলি ছোড়ে। গুলিতে উবার চালকের পায়ে আঘাত লাগে। প্রথমে তারা মনে করেছিলেন গাড়ির টায়ার ফেটে গেছে, পরে চালককে আহত অবস্থায় দেখে ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।

ঘটনার পর পুলিশ তাদের নিরাপদে থানায় নিয়ে গিয়ে জবানবন্দি গ্রহণ করে। পরে পুলিশ সদস্যরাই টহল গাড়িতে করে তাদের স্টেডিয়ামে পৌঁছে দেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত উবার চালকের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।

পুলিশের তথ্যমতে, মহাসড়কে সংঘটিত তিনটি গুলিবর্ষণের সময় সব গাড়িই পূর্বদিকে যাচ্ছিল। বাকি দুটি ঘটনা ঘটে শহরের প্রধান সড়ক ট্রুম্যান রোডে।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন কিশোর। সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ট্রুম্যান রোডে একটি গাড়ি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। আহত চালককে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শরীরে গুলির আঘাত শনাক্ত করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

কানসাস সিটি পুলিশের কর্মকর্তা জ্যাকব বেকিনা জানিয়েছেন, সব ভুক্তভোগীই দাবি করেছেন যে তারা গাড়ি চালানোর সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এসব হামলার পেছনে একই ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সন্দেহভাজনকে শহরতলি ইনডিপেনডেন্সের একটি বাড়িতে শনাক্ত করে অভিযান চালায়। তবে বুধবার সকালে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি এখনও পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, কানসাস সিটি (কানসাস) পুলিশ জানিয়েছে, ১১ জুনের একটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের মামলাতেও ওই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

বিশ্বকাপ ঘিরে হাজারো দর্শকের উপস্থিতির মধ্যেই এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বহনকারী গাড়িতে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version