যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি আমদানি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে উপস্থাপন করা হলেও বিভিন্ন প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় সেগুলো প্রত্যাহার করে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো নিয়ে সদস্যরা বিভিন্ন অসংগতি ও তথ্যগত ঘাটতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললেও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। ফলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও বিশদ ব্যাখ্যাসহ প্রস্তাবগুলো নতুন করে উপস্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবগুলো প্রস্তুত করেছিল। তবে যাচাই-বাছাইয়ের বিভিন্ন বিষয়ে আরও স্পষ্টতা প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংঘাতের সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। বিপিসি সেগুলো যাচাই করে সরকারের নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছিল।

তিনি বলেন, অনেকগুলো প্রস্তাব একসঙ্গে আসায় মন্ত্রিসভা কমিটি সবগুলো একত্রে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তাই প্রস্তাবগুলো ফের উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহে তাৎক্ষণিক কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, সরকার ওপেন টেন্ডার (ওটিএম) এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি)- এই দুই পদ্ধতিতেই নিয়মিত জ্বালানি তেল আমদানি করছে। ফলে বর্তমান সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ওমান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ ৭৫ হাজার টন ডিজেল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানির নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক দরপত্র ও দরকষাকষির মাধ্যমে এসব প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেছিল বিপিসি।

এটি প্রথম নয়। এর আগের সপ্তাহেও অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির ১৫টি প্রস্তাব, যার মূল্য ছিল ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, একইভাবে প্রত্যাহার করা হয়।

ফলে টানা দুই সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নতুন করে অনুমোদন না মিললে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version