খেলাধুলা ও বিনোদন জগতের দুই মহাশক্তির সম্ভাব্য মিলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসি নাকি এবার পা রাখতে যাচ্ছেন হলিউডের জনপ্রিয় সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্পাইডার-ম্যান’-এর জগতে। আর সেই উপস্থিতির জন্য তার পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকা। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, স্পাইডার-ম্যান সিরিজের আসন্ন একটি চলচ্চিত্রে বিশেষ অতিথি চরিত্রে দেখা যেতে পারে আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। যদিও চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা মেসির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও গুঞ্জনটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় তুলেছে।
তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, সিনেমাটিতে মেসির উপস্থিতি পূর্ণাঙ্গ কোনো চরিত্র হিসেবে নয়। বরং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি বিশেষ ভিডিও বা সংক্ষিপ্ত ক্যামিও উপস্থিতিতে তাকে দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ চলচ্চিত্রের গল্পে তার ভূমিকা দীর্ঘ বা কেন্দ্রীয় নয়, কিন্তু বিশ্বব্যাপী তার জনপ্রিয়তার কারণে ওই স্বল্প সময়ের উপস্থিতিই দর্শকদের কাছে বড় আকর্ষণে পরিণত হতে পারে।
সূত্রগুলোর দাবি, কয়েক সেকেন্ডের এই উপস্থিতির জন্যই মেসিকে প্রায় ১৭৬ কোটি টাকার পারিশ্রমিক প্রস্তাব করা হয়েছে। হিসাব করলে প্রতি সেকেন্ডে তার আয় দাঁড়ায় প্রায় ৭৫০,০০০ মার্কিন ডলার। খবরটি সত্য হলে এটি শুধু চলচ্চিত্র জগতেই নয়, ক্রীড়া ও বিনোদন অঙ্গনের ইতিহাসেও অন্যতম আলোচিত পারিশ্রমিকের ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে মেসির জনপ্রিয়তা মাঠের সীমানা ছাড়িয়ে বহু আগেই বিনোদন ও বাণিজ্যিক জগতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর একটির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যাওয়াকে অনেকেই অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
বিশ্লেষকদের মতে, মেসিকে সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে এর বৈশ্বিক বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে। লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের কোটি কোটি মেসি-ভক্ত স্বাভাবিকভাবেই চলচ্চিত্রটির প্রতি বাড়তি আগ্রহ দেখাবে। ফলে বক্স অফিস আয় এবং প্রচারণা উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের সুবিধা পেতে পারে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
এদিকে খবরটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের প্রতিক্রিয়াও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ একে ফুটবল ও হলিউডের ‘স্বপ্নের মিলন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সত্য-মিথ্যা যাই হোক না কেন, মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই আলোচনা ইতোমধ্যেই বিশ্ব গণমাধ্যমের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে শাসন করে আসছেন লিওনেল মেসি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে তিনি নিজের কিংবদন্তিকে আরও উজ্জ্বল করেছেন। এবার সেই কিংবদন্তি যদি সত্যিই স্পাইডার-ম্যানের পর্দায় হাজির হন, তবে তা শুধু চলচ্চিত্রপ্রেমী নয়, ফুটবলভক্তদের জন্যও হবে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
এখন সবার অপেক্ষা একটাই-গুঞ্জন কি বাস্তবে রূপ নেবে, নাকি কোটি ভক্তের কল্পনায় সীমাবদ্ধ থাকবে ‘স্পাইডার-ম্যান’ মেসির গল্প? তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, যেখানে মেসি, সেখানেই যেন অসম্ভবকেও সম্ভব বলে মনে হয়।


