রাঙামাটিতে তিন হাজার ইয়াবা বড়িসহ গণ অধিকার পরিষদের এক জেলা নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযানে জেলা পর্যায়ের একজন রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে আসায় বিষয়টি স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের মারী স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে অভিযান চালিয়ে গণ অধিকার পরিষদের রাঙামাটি জেলা শাখার সহ-সভাপতি জলমনি চাকমা (৪৯) এবং তার সহযোগী বাবু তঞ্চঙ্গ্যা (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিন হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। পরে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যেই তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
রাত ১১টার দিকে রাঙামাটি কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক সেকেন্দার। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে এবং তাদের আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে রিমান্ড আবেদন করে মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তীব্র হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের জেলা বা কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস, সরবরাহ রুট এবং এর পেছনে সক্রিয় সম্ভাব্য মাদক চক্রের সদস্যদের শনাক্তে জোরালো তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।
সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যেন অপরাধ তদন্তে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
ঘটনাটি এখন শুধু একটি মাদক উদ্ধার অভিযান নয়; বরং রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনার আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।


