বিশ্বকাপজুড়ে রেফারিং ও ভিএআর বিতর্ক যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, ঠিক তখনই কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে একের পর এক প্রশ্নের মুখে পড়লেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। তবে বিতর্কে না জড়িয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, ফ্রান্সের পুরো মনোযোগ শুধুই মরক্কোকে ঘিরে। একই সঙ্গে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে একটুও হালকাভাবে দেখছে না বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের পর রেফারিং ও ভিএআর নিয়ে নতুন করে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই আবহে ফ্রান্স-মরক্কো ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারি ও পুরো অফিশিয়াল প্যানেল আর্জেন্টিনার হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

এ নিয়ে দেশম শান্তভাবেই বলেন, ‘রেফারিদের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। আমাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, রেফারি নয়।’ দেশমের এই বক্তব্যেই পরিষ্কার, মাঠের বাইরের বিতর্কে নয়, বরং মাঠের লড়াইয়েই মনোযোগ দিতে চাইছে ফ্রান্স।

কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। অনেকেই সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিশোধের কথা বললেও দেশম মনে করেন, অতীতের ফল বর্তমান ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলে না। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে প্রতিশোধ বলে কিছু নেই। ম্যাচের দিন যে দল ভালো খেলবে, তারাই জিতবে।’

দেশমের কথায় স্পষ্ট, মরক্কোকে নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না ফরাসিরা। বরং আফ্রিকার দলটির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের সতর্ক করে তুলেছে।

তিনি বলেন, ‘মরক্কো খুব ভালো ফুটবল খেলছে। তারা এই পর্যায়ে আসতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে। তাদের বিপক্ষে জিততে হলে আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে।’

কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, ব্র্যাডলি বারকোলা এবং আক্রমণভাগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মাইকেল ওলিসেকে নিয়ে ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর ধরা হচ্ছে। চলতি বিশ্বকাপেও সর্বোচ্চ গোল করা দলগুলোর একটি তারা।

শুধু তারকা ফুটবলার থাকলেই জয় নিশ্চিত নয়। তিনি বলেন, ‘মরক্কো প্যারাগুয়ের মতো দল নয়। তারা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেই এখানে এসেছে। তাই আমাদের সর্বোচ্চ মানের ফুটবল খেলতে হবে।’

কাগজে-কলমে ফেভারিট হলেও ফ্রান্স জানে, নকআউট পর্বে সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে মরক্কোও টানা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত। ফলে এই ম্যাচে ফ্রান্সের ওপর প্রত্যাশার চাপ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণেরও চ্যালেঞ্জ। দেশমও সেই বাস্তবতা স্বীকার করে শুধুই ম্যাচে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন।

১৯৯৮ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো দেশম আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,
‘আমি এখন শুধু মরক্কো ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। আগামীকালই সব শেষ হয়ে যাবে-এভাবে আমি ভাবছি না।’

কোয়ার্টার ফাইনালের আগে দেশমের বক্তব্যে স্পষ্ট, ফ্রান্স নিজেদের শক্তিতে আত্মবিশ্বাসী হলেও মরক্কোকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ মনে করছে না। বরং আফ্রিকার এই দলটির বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version