বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁর ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে ভারত পর্দার আড়ালে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি আপাতত শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের পক্ষে নয়। বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়া এবং তাঁর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চাইছে ভারত।
দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশে বিচার ও প্রত্যাবাসনের দাবি জোরালো হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভারত একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে। সরাসরি তাঁকে দীর্ঘদিন আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে- এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তৃতীয় কোনো দেশে শেখ হাসিনার নিরাপদ অবস্থানের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সহযোগিতা পাওয়া গেলে ভারতের ওপর থাকা কূটনৈতিক চাপ অনেকটাই কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং তাঁর নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে আরও জটিল না হয়, সেই লক্ষ্যেই একটি দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল এমন একটি সমাধান চায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যাতে একদিকে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও ভারতের সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হয়।


