বিএনপি সরকারের নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ভূলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে প্রায় ২৭ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি সড়ককে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটি জনস্বার্থের পরিবর্তে ভূলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল হক ভূঁইয়ার বাড়িতে যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের সময় সরকারি খালের একাংশ মাটি ও বালু ফেলে ভরাট করায় পরিবেশগত ক্ষতি এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মাত্র ৭৫ মিটার দীর্ঘ ও ১২ ফুট প্রশস্ত একটি সড়ক নির্মাণে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আল গনি বিল্ডার্স। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক নির্মাণের সুবিধার্থে পাশের সরকারি খালের একটি অংশ বাঁশ ও গজারির খুঁটি দিয়ে ঘিরে সেখানে মাটি ও বালু ফেলা হয়েছে। একাধিক স্থানে সেই ঘের ভেঙে মাটি সরাসরি খালের মধ্যে পড়ে থাকায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভূলতা ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ সড়ক, জনবহুল গ্রামীণ রাস্তা এবং জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও সেগুলো উপেক্ষা করে সরকারি অর্থ ব্যয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িমুখী সড়ক নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বাড়িতে আগে থেকেই চলাচলের রাস্তা বিদ্যমান থাকলেও নতুন করে আরেকটি সড়ক নির্মাণের পেছনে জনকল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত সুবিধাই মুখ্য হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও অভিযোগ করেন, সরকার যেখানে খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের কথা বলছে, সেখানে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে খাল ভরাটের ঘটনা প্রশাসনিক নজরদারির চরম ব্যর্থতার পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে মাত্র ৭৫ মিটার রাস্তার জন্য প্রায় সাড়ে ২৭ লাখ টাকা ব্যয় নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, প্রকল্পের ব্যয়, নকশা, প্রয়োজনীয়তা এবং ঠিকাদারি কার্যক্রম- সবকিছু নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সরকারি অর্থের ব্যবহার, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো জনপ্রতিনিধি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের সাহস না পান।


