চট্টগ্রামের মিরসরাই উপকূলকে ব্যবহার করে সাগরপথে মিয়ানমারে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার পাচারের প্রস্তুতির অভিযোগ সামনে এসেছে। গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৯৭৫ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় সার পরিবহনে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক ও পাচারের জন্য উপকূলে প্রস্তুত রাখা একটি মাছ ধরার ট্রলারও জব্দ করা হয়। ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হলেও পাচারচক্রের মূল হোতারা অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের বঙ্গোপসাগর উপকূলে এ অভিযান চালানো হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- ট্রাকচালক ইয়াছিন এবং শ্রমিক মো. মনির হোসেন ও মো. ইসমাইল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ইয়াছিনকে ১ হাজার টাকা এবং মনির হোসেন ও ইসমাইলকে ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেন।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের মাঝিরঘাট থেকে চারটি ট্রাকে করে সারগুলো মিরসরাইয়ের উপকূলে আনা হয়। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যে সারগুলো হাতিয়ায় নেওয়ার কথা থাকলেও উপকূলে আগে থেকেই একটি মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

ট্রাক থেকে সারগুলো ওই ট্রলারে তোলার সময় বিষয়টি কোস্টগার্ডের নজরে আসে। এরপর দ্রুত অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সারসহ ট্রাক ও ট্রলার জব্দ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সাগরপথে সারগুলো মিয়ানমারে পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে এই পরিকল্পনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কোনো বড় চক্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

ঘটনাটিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। ট্রাকচালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনটি ট্রাকে ৩০০ বস্তা করে এবং একটি ট্রাকে ২০০ বস্তা- মোট ১ হাজার ১০০ বস্তা সার থাকার কথা ছিল। কিন্তু অভিযান শেষে ট্রাক ও ট্রলার মিলিয়ে উদ্ধার হয়েছে ৯৭৫ বস্তা।

ফলে বাকি ১২৫ বস্তা সার কোথায় গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কোস্টগার্ডের অভিযান শুরুর আগেই একটি মাছ ধরার ট্রলারে করে ওই সার সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিরা সারের বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পরে ঘটনাস্থলে যান মিরসরাইয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায়।

জব্দ করা ৯৭৫ বস্তা সার সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি কেজি ২৫ টাকা হিসেবে প্রকাশ্য নিলামে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীরুল কাদের বলেন, ট্রলারে থাকা ১৭৫ বস্তা এবং চারটি ট্রাকে থাকা ৮০০ বস্তাসহ মোট ৯৭৫ বস্তা সার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। সারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে ট্রাক ও ট্রলার মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানে তিনজন আটক হলেও সার পরিবহন, উপকূলে ট্রলার প্রস্তুত রাখা এবং সাগরপথে পাচারের মতো একটি বড় পরিকল্পনার পেছনে কারা ছিল- এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

মিরসরাই কোস্টগার্ডের পিওআর মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মিরসরাই উপকূলে নিয়ে আসা সারগুলো জব্দ করা হয়েছে। সাগরপথে চোরাচালান প্রতিরোধে কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version