ঢাকার কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানোর পর পালানোর চেষ্টা করা এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে পুরো হামলার দৃশ্য। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

কেরানীগঞ্জের শাক্তা ইউনিয়নের আরশিনগর এলাকায় মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম ফরহাদ হোসেন। দুপুরে চুল কাটাতে আরশিনগরের একটি সেলুনে ঢুকেছিলেন ফরহাদ। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যুবক সেলুনে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি চালায়।

গুলির শব্দে সেলুনের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বাইরে বেরিয়ে আসেন সেখানে থাকা লোকজন। এ সময় ফরহাদও সেলুন থেকে বের হয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু হামলাকারীরা তাঁর পিছু নেয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একপর্যায়ে একজন হামলাকারী ফরহাদকে ধরে ফেলেন। এরপর ধারালো অস্ত্র হাতে আরও কয়েকজন সেখানে এসে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন ফরহাদ। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ফরহাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ব্যবসা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে ফরহাদের আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। তাঁর কাছ থেকে টাকা ও চাঁদা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, পূর্ববিরোধসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

পুলিশের তথ্যমতে, নিহত ফরহাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কয়েকটি থানায় হত্যা, মাদক ও দস্যুতাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁর সঙ্গে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে, হত্যার পেছনে মূল কারণ কী এবং হামলায় কতজন সরাসরি জড়িত- এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version