দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব যেন থামার কোনো লক্ষণই দেখাচ্ছে না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, আর নিভে যাচ্ছে একের পর এক নিষ্পাপ শিশুর জীবন। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৭ শিশু। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে- যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করছে।
বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ শিশুর কারও ক্ষেত্রে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত না হলেও তারা সবাই হামের উপসর্গে ভুগছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৭০৮ শিশু, আর নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৫ শিশু। অর্থাৎ এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট ৮০৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুধু মৃত্যুই নয়, উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সংক্রমণও। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে, আর ৯০৪ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সময়ে ৮৩৪ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যদিও চিকিৎসা শেষে ৮৮৩ জন হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জন, আর পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগী ১৪ হাজার ৮৪১ জন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের ৯৯ হাজার ২৯৪ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ক্রমবর্ধমান এই প্রাণহানি ও সংক্রমণ জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা শিশুদের টিকাদান সম্পন্ন করা, জ্বর বা শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।


