দেশের শ্রমবাজারে উদ্বেগজনক সংকটের ইঙ্গিত মিলছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য প্রকাশের পর বিএনপি সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও কর্মসংস্থান নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল নতুন বিনিয়োগ, শিল্প সম্প্রসারণ এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে শিল্প ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। বরং অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ কার্যক্রম কমে যাওয়ায় বেকারত্বের চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
ব্যবসায়ী মহলের একটি অংশের অভিযোগ, নীতিগত অনিশ্চয়তা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অভাব এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধীরগতির কারণে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতে চাকরির বাজারে সংকোচন লক্ষ করা যাচ্ছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অর্থনীতিকে গতিশীল করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কর্মসংস্থানের সাম্প্রতিক চিত্র সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তরুণ চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং নতুন স্নাতকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।
কর্মসংস্থানের এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ভোক্তা ব্যয় এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে গিয়ে কার্যকর কর্মসংস্থানমুখী নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।


