মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিজের স্বভাবসুলভ আত্মপ্রশংসামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগে বিশ্বের অন্তত আটটি যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটেছে। তবে এত কিছুর পরও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমি অন্তত আটটি যুদ্ধ মিটমাট করেছি। তারপরও আমার ভাগ্যে নোবেল শান্তি পুরস্কার জোটেনি।” তাঁর এ মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে হাসি-ঠাট্টা ও করতালির রোল পড়ে যায়।
বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এবং বৈশ্বিক কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কারণেই বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সংঘাত বিস্তার লাভের আগেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবি নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহল ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি ঠিক কোন আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। বরং তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক সমর্থকদের উজ্জীবিত করার জন্য দেওয়া অতিরঞ্জিত ও নাটকীয় মন্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্বের বড় বড় সংঘাত ও যুদ্ধের সমাধান সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া, বহু দেশের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব হয়। সেখানে এককভাবে কোনো নেতার পক্ষে “আটটি যুদ্ধ থামানোর” দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ট্রাম্প অতীতেও একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রসঙ্গ টেনে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতি, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁর ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। এবারও সেই একই সুরে তিনি নোবেল পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ট্রাম্পের এ ধরনের মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়েরই অংশ। নিজের সাফল্যকে বড় করে উপস্থাপন করা এবং সমর্থকদের আবেগকে উসকে দেওয়া তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কৌশল। তবে “আটটি যুদ্ধ বন্ধ করার” দাবি অনেকের কাছেই বাস্তবতার চেয়ে বেশি হাস্যরসাত্মক ও আত্মপ্রচারণামূলক বলে মনে হয়েছে।
ফলে ট্রাম্পের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে তাঁর স্বভাবসুলভ রসিকতা হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে এমন দাবি করা নিছক রাজনৈতিক প্রচারণা ছাড়া আর কিছু নয়।


