জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ১০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হলেও সেই অর্থ সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ সামনে এনেছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অফিস পরিচালনায় স্বেচ্ছাচারিতা, সরকারি বরাদ্দের অর্থে অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতি, প্রেষণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সুবিধা গ্রহণসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ ইন্টারনেট ব্যয়ের অর্থ ফেরত নেওয়ার ঘটনাকে তারা সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুস্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র জানায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যয় বাবদ প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১২ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আয়কর ও ভ্যাট কেটে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রধান শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেই অর্থ আবার শিক্ষকদের কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজেদের কাছে রেখে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ৯৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮ থেকে ২০টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। অধিকাংশ বিদ্যালয় এখনো সংযোগের বাইরে। অনেক প্রধান শিক্ষক নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ খরচ করে ইন্টারনেট সংযোগ চালু রেখেছেন বলেও জানিয়েছেন।

মরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের ইসলামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান রাজা বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোকে বরাদ্দ দেওয়া হলেও পরে অজ্ঞাত কারণে সেই অর্থ ফেরত নেওয়া হয়। অথচ অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এখনো ইন্টারনেট সংযোগই দেওয়া হয়নি। এতে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version