চার উড়োজাহাজে ১৯ ছিনতাইকারীর হামলায় বদলে যায় বিশ্বরাজনীতি ও নিরাপত্তার হিসাব

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালায়। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে, একটি পেন্টাগনে এবং চতুর্থটি পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন।

আজ সেই হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ওই ঘটনা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বদলে দেয়নি; পাল্টে দেয় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা।

হামলার আগে আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে একাধিক তথ্য থাকলেও সিআইএ ও এফবিআইয়ের মধ্যে যথাযথ তথ্য সমন্বয় হয়নি। পরে ৯/১১ কমিশন এটিকে বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে।

হামলার পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে এবং ২০০৩ সালে ইরাকে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা। দুই দশকের এসব যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি মানবাধিকার নিয়েও তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা কাঠামো ঢেলে সাজায়। তথ্য ভাগাভাগি বাড়ানো, ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পদ সৃষ্টি করা হয়। বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও নজরদারিও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়।

তবে সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের পাশাপাশি এখন ‘লোন উলফ’ হামলা, অনলাইন উগ্রবাদ ও ডানপন্থী চরমপন্থাও বড় উদ্বেগের বিষয়।

২৫ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মনোযোগ অনেকটাই রাশিয়া ও চীনের দিকে সরে গেছে। ফলে সন্ত্রাসবাদকে কম অগ্রাধিকার দেওয়ার ঝুঁকি নিয়েও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version