নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে লাথি মারার ঘটনায় গর্ভপাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি, স্থানীয় বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীন মোহনগঞ্জ আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজানা হক এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালত পুলিশের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) রেজাউল করিম।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফেরদৌস মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। মামলার অপর পাঁচ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে প্রধান আসামি ফেরদৌস মিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী আশা আক্তার (২১) একই উপজেলার সুয়াইর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি ঘটনার সময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। গত ৩ জুন বাবার বাড়ি পালগাঁও গ্রামে অবস্থানকালে তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের পাশে ঘোরাফেরা করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আশার বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে আশা আক্তারকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার পেটে লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার পরপরই আশার রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন তার গর্ভপাত ঘটে।
ঘটনার পরদিন আশার বাবা দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ৫ জুন আশার স্বামী সালমান শাহ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক জয় পাল জানান, মামলার ছয় আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছেন। তবে প্রধান আসামি ফেরদৌস মিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।


