দেশে দুর্নীতি ও ঘুষের বিস্তার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান। প্রকাশিত তথ্যমতে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে বিভিন্ন খাতে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘুষ হিসেবে লেনদেন হওয়া দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জনসেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুষ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয় এবং আইনের শাসনকে দুর্বল করে। সরকারি সেবা গ্রহণ, জমি সংক্রান্ত কাজ, আইনশৃঙ্খলা, ব্যবসায়িক অনুমোদন, নিয়োগ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ঘুষের প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ঘুষের এই বিশাল অঙ্ক প্রমাণ করে যে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তব ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনও আসেনি। সাধারণ মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই মৌলিক সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং জাতীয় অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়িয়ে তোলে, কারণ সাধারণ নাগরিকরা যেখানে নিয়ম মেনে সেবা পেতে সংগ্রাম করেন, সেখানে অর্থের বিনিময়ে অনেকেই বিশেষ সুবিধা আদায় করে নেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ঘুষ ও দুর্নীতি রোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন কার্যকর বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ঘুষের এই উদ্বেগজনক চিত্রকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version