দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং পাপেট শিল্পের পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত চারদিন ধরে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
শিল্পীর স্ত্রী মেরী মনোয়ার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১৪ জুন হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মুস্তাফা মনোয়ারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় তার রক্তচাপ এবং শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছিল। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।
মেরী মনোয়ার বলেন, “ওনার রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শেই আইসিইউতে রাখা হয়েছে। সবাই ওনার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করবেন।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও সাম্প্রতিক এই সংক্রমণ পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম মুস্তাফা মনোয়ার। চিত্রশিল্পী, শিক্ষক, উপস্থাপক ও পাপেট শিল্পী হিসেবে তিনি কয়েক দশক ধরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। বিশেষ করে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচকে আধুনিক মাধ্যমে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা অনন্য। শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া ২০১৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে ‘সুলতান স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
এদিকে দেশের শিল্প-সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা মুস্তাফা মনোয়ারের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। পরিবারও দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছে।


