৭,৭০০ আবেদনকারীর মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে নির্বাচন; ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও বিশেষায়িত কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ

ভারত সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনস (আইসিসিআর) বৃত্তির আওতায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের ৫৪১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে মঙ্গলবার রাজধানীর বারিধারায় বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনে তাদের সম্মানে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব (শিক্ষা) আনিষ রঞ্জন জানান, চলতি বছর সারা বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ জন শিক্ষার্থী আইসিসিআর বৃত্তির জন্য আবেদন করেন। কঠোর বাছাই ও মেধা মূল্যায়নের মাধ্যমে সেখান থেকে ৫৪১ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা ভারতের ৫০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের অন্যতম ফ্ল্যাগশিপ শিক্ষা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান। একই সঙ্গে এই কর্মসূচি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “পড়াশোনার সময়টিই জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। আমি সব সময়ই মনে করেছি, যদি সম্ভব হতো, সারাজীবন শিক্ষার্থী হয়েই থাকতে চাইতাম।”

তিনি আরও বলেন, “স্বপ্ন ছাড়া কোনো ভবিষ্যৎ নেই। বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সাহস রাখতে হবে। আজকের বিশ্ব তরুণদের নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির দিকেই তাকিয়ে আছে।”

আইসিসিআর বৃত্তি শুধু উচ্চশিক্ষার সুযোগই সৃষ্টি করে না; এটি বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ভিত্তিও আরও সুদৃঢ় করে।

দিনাজপুরের শিক্ষার্থী পিযুষ কান্তি দেব শর্মা পাঞ্জাবের একটি প্রতিষ্ঠানে কথক নৃত্যের ওপর সিনিয়র ডিপ্লোমা করতে যাচ্ছেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই সুযোগ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা গ্রহণের এমন সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অঙ্কিতা কর্মকার রবীন্দ্রসংগীত ‘যদি তারে নাই চিনি গো’ পরিবেশন করেন। শুভ মণ্ডল পরিবেশন করেন ‘তোমার টানে সারা বেলার গানে’। এছাড়া পিযুষ কান্তি দেব শর্মার মনোমুগ্ধকর কথক নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের প্রশংসা কুড়ায়।

আইসিসিআর বৃত্তি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর এই কর্মসূচির মাধ্যমে শত শত শিক্ষার্থী ভারতের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি দুই দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version