যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেই নিউইয়র্কে ঘটে গেল ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা। দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবসের নানা আয়োজন চলাকালে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকায় বন্দুকধারীর হামলায় চার শিশুসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে ব্রুকলিনের ওয়েস্ট ৩১তম স্ট্রিট এলাকায় হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গোলাগুলির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। পরে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পুরো এলাকা ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে দুজন পুরুষ, দুজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছে। আহত শিশুদের বয়স যথাক্রমে ১৪, ১২, ৭ ও ৬ বছর। শিশুদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে ২১ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন।

ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য কিংবা হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কেও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যস্ত ও জনবহুল এই এলাকায় সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি নিউইয়র্ক পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।

স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের সময় জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের সহিংস ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে গণগুলি ও বন্দুক সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেও স্বাধীনতা দিবসের উৎসবের মধ্যেই নিউইয়র্কের এই রক্তাক্ত ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে ফেডারেল সরকারের কোনো সরাসরি দায় বা সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যাপক উৎসব, কুচকাওয়াজ ও আতশবাজির আয়োজন করা হয়। সেই উৎসবের আবহের মধ্যেই নিউইয়র্কের কোনি আইল্যান্ডে সংঘটিত এই গোলাগুলির ঘটনা দেশজুড়ে উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version