ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব পরার আইন এখনো বহাল থাকলেও দেশটির বিভিন্ন শহরের রাস্তায় ক্রমেই বেশি সংখ্যক নারীকে হিজাব ছাড়া চলাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে নারীদের প্রকাশ্যে মাথা খোলা রেখে চলাচলের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে অনেকটাই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি দেশটির দীর্ঘদিনের কঠোর পোশাকবিধি এবং তার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে, একাধিক নারী হিজাব ছাড়াই রাস্তায় চলাফেরা করছেন। এমন দৃশ্য ইরানের রক্ষণশীল সামাজিক বাস্তবতায় বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরানে হিজাবের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়েছে। দেশটির বিদ্যমান আইনে নারীদের জনসমক্ষে চুল ঢেকে রাখা ও নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক পরার বিধান এখনো রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আইন প্রয়োগের ধরন কিছু এলাকায় শিথিল হলেও কর্তৃপক্ষ এখনো হিজাববিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নারীকে সতর্ক করা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, গাড়ি জব্দ করা এবং নজরদারি চালানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ইরানে নারীদের এই প্রকাশ্য অবাধ্যতার পেছনে ২০২২ সালের মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ‘উইমেন, লাইফ, ফ্রিডম’ আন্দোলনের বড় প্রভাব রয়েছে। হিজাববিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর থেকেই অনেক নারী বাধ্যতামূলক হিজাবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে শুরু করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বড় শহরগুলোতে নৈতিকতা পুলিশ বা পোশাকবিধি প্রয়োগকারী টহল আগের তুলনায় কম দৃশ্যমান হওয়ায় অনেক নারী আরও প্রকাশ্যভাবে হিজাব ছাড়া চলাফেরা করছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ইরানের পার্লামেন্টে হিজাব ও ‘চ্যাস্টিটি’ আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের ভেতরেও মতবিরোধ রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল নতুন কঠোর আইনটি কার্যকর না করার নির্দেশ দিয়েছিল বলে পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে সরকারের ওপর আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। চলতি আগস্টেও ইরানের কট্টরপন্থী মহল বাধ্যতামূলক হিজাব আইন প্রয়োগের দাবি জোরদার করেছে। বিভিন্ন ক্যাফে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান এবং বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি হিজাব আইন বাতিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং একদিকে নারীদের প্রকাশ্য অবাধ্যতা বাড়ছে, অন্যদিকে সরকার আইনটি পুরোপুরি প্রত্যাহার না করে বিভিন্ন পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।


