ইরানের সামরিক কার্যক্রম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, তেল বাণিজ্য ও সাইবার তৎপরতার বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, অবৈধ তেল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নেটওয়ার্ক এবং মার্কিন অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কথিত সাইবার হামলায় সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য করে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনা ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নজরদারির জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে জড়িত ইরানভিত্তিক কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য ইরানের সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সরবরাহকারী একটি নেটওয়ার্ক। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এ ছাড়া ইরানের সামরিক কার্যক্রমে সহায়তা করা আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনের সঙ্গেও যুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ইরানের তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বাণিজ্যেও নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে ইরানি পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন ও পাচারে জড়িত শিপার, মধ্যস্থতাকারী এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ককে এর আওতায় আনা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের তেল বাণিজ্য সচল রাখতে এসব আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে ইরানের তেল আয়ের ওপর চাপ বাড়াতেই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সাইবার খাতেও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর কথিত ইরানি সাইবার হামলা এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

একই সঙ্গে পাঁচজন ইরানি সাইবার অপারেটরের তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরানের সামরিক পরিকল্পনা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার তৎপরতা এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পরিচালিত তেল বাণিজ্য ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তার পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছে ওয়াশিংটন।

নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বহুমুখী চাপ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন, তেল রপ্তানি ও সাইবার সক্ষমতার ওপর একযোগে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানের কৌশলগত সক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version