দেশের রাজনীতিতে নতুন মোড়কে পুরোনো অপশক্তির প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা চলছে বলে দাবি; জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা ফজলুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, এনসিপি কোনো নতুন রাজনৈতিক শক্তি নয়; বরং এটি জামায়াতে ইসলামীর একটি বর্ধিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, যা নতুন পরিচয়ে রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছে।
এক প্রতিক্রিয়ায় ফজলুর রহমান বলেন, “এনসিপিকে নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্য এবং কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে এটি মূলত জামায়াতের বর্ধিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম। নাম পরিবর্তন করলেই আদর্শ পরিবর্তন হয়ে যায় না।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া শক্তিগুলো বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও সেই প্রবণতার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
ফজলুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অতীত, আদর্শ ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। তাই শুধুমাত্র নতুন নাম বা নতুন ব্যানারে জনগণকে বিভ্রান্ত করা সহজ হবে না।
তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে যারা অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার মূল চেতনাকে ধারণ করে, তাদের উচিত রাজনৈতিক বাস্তবতাকে গভীরভাবে মূল্যায়ন করা। কোনো দলকে শুধু নতুন মুখ বা নতুন স্লোগানের ভিত্তিতে বিচার না করে তাদের আদর্শিক অবস্থানও বিবেচনায় নিতে হবে।”
তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একদিকে সমর্থকরা তার বক্তব্যকে বাস্তবতার প্রতিফলন বলে দাবি করছেন, অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকরা এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করছেন।তবে এ বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উত্থান এবং তাদের আদর্শিক অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এ অবস্থায় ফজলুর রহমানের মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ ও জনমতের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।


