রাজধানীর পৃথক দুটি এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাফরুলে দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে যুবদলের এক কর্মী নিহত এবং থানা যুবদলের সদস্য সচিব গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই দিনে কদমতলীতে বিএনপির এক স্থানীয় নেতাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। দুটি ঘটনাই তদন্ত করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় শেরে বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেটের সামনে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় তিনজন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত। সে সময় কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, যুবদল কর্মী ইউসুফ বেপারী (৩২) ও আরও কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন।

হঠাৎ হামলাকারীরা তাঁদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে ইউসুফ বেপারী ও হাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বুকে গুলি লেগেছিল। গুলিবিদ্ধ হাফিজুর রহমানকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার সময় ছোড়া একটি গুলি অন্য একটি বস্তুর সঙ্গে লেগে ছিটকে পথচারী মনির হোসেনের শরীরে বিদ্ধ হয়। তাকেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাফরুল থানার ডিউটি অফিসার এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গুলির খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হামলার পেছনের কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অস্ত্রধারী এক হামলাকারীকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ১২টার দিকে ইউসুফ বেপারীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত ইউসুফ বেপারীর বাবার নাম শাহজাহান বেপারী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। পরিবার নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

এদিকে একই দিনে রাজধানীর কদমতলীতেও আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে মাতুয়াইল মেডিকেল রোডে জুমার নামাজে যাওয়ার পথে বিএনপির স্থানীয় নেতা শামসুদ্দিন খানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শামসুদ্দিন খানের ভাই আজিমউদ্দিন খান দাবি করেন, তাঁর ভাই মাতুয়াইল মাতৃসদন ইউনিট বিএনপির সভাপতি এবং শামীমবাগ পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version