চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ রাতযাপন করেছে নিষিদ্ধ করতে চাওয়া জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্যর বারীতে। এটা তুমুল রাজনৈতিক দ্বিচারিতার প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে, তারা যে বাড়িতে অবস্থান করেছেন, সেটি জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর পারিবারিক বাড়ি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রবিবার (১২ জুলাই) দিনভর চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যাকবলিত স্থানে ভ্রমণ শেষে রাতে বাঁশখালীর বৈলছড়ি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ‘খান বাহাদুর বদি আহমদ বাড়ি’তে অবস্থান করেন এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা। সেখানে তারা নৈশভোজ গ্রহণ করেন এবং রাতযাপন করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভূমিকার সমালোচনা করে একসময় দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিল এনসিপি। সেই প্রেক্ষাপটে জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্যের পারিবারিক বাড়িতে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাড়িটি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর পারিবারিক সম্পত্তি। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র এবং জাতীয় পার্টির আমলে দুই দফায় বাঁশখালী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এর আগে ১৯৭৯ সালে বিএনপির মনোনয়নেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং এনসিপি নেতাদের ওই বাড়িতে অবস্থানের বিষয়টি আগে থেকে জানতেন না। পরে অন্যদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি জানান, বাড়িটি ছয় ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধীন। তার এক ছোট ভাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং এনসিপি নেতাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন। তবে পরিবারের কেউ এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও তিনি দাবি করেন।

এনসিপি নেতাদের থাকা-খাওয়ার সার্বিক ব্যবস্থাপনা করেন মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীর বড় ভাই অলিউল ইসলাম চৌধুরী (শুক্কু মিয়া)-এর ছেলে রহিমুল এহসান চৌধুরী মিঠু।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version