খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত ২১ মেট্রিক টন সার তালিকাভুক্ত গুদামের বাইরে মজুদের অভিযোগে জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই ঘটনায় এসএস ট্রেডার্সের ম্যানেজারকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশের কথাও জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি শুধু বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকির সার কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে সংরক্ষণ হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছানোর আগে সরবরাহব্যবস্থার কোন স্তরে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে- সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দীঘিনালার ২ নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার প্রতিষ্ঠান এসএস ট্রেডার্সে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে নির্ধারিত গুদামের বাইরে মজুত থাকা ২১ মেট্রিক টন সার পাওয়া যায়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত সারও ছিল। পরে সেগুলো জব্দ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয়।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিয়া সুলতানা জানান, সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত ২১ মেট্রিক টন সার জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত গুদামের বাইরে সরকারি সার সংরক্ষণের অভিযোগে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ভর্তুকির সার ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং প্রয়োজনের সময়ে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া। ফলে বরাদ্দের সার নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে মজুত থাকার ঘটনা সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে- কৃষক যখন সার খুঁজছেন, তখন সেই সার কোথায় আটকে থাকছে?

বিশেষ করে কৃষিপ্রধান এলাকায় সরকারি বরাদ্দের সার গুদামবন্দী হয়ে থাকলে কিংবা অনুমোদিত সরবরাহব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষকের ওপর। কৃষককে তখন বাড়তি দামে সার কিনতে হতে পারে, এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরতে হতে পারে, কিংবা সময়মতো সার না পাওয়ায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় খুচরা সার বিক্রেতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে খুচরা বিক্রেতাদের নিয়মিত সার সরবরাহ না করার অভিযোগ রয়েছে। জব্দ করা সার তামাক চাষে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল।

সরকারি সার নিয়ে অনিয়ম হলে তার দায় যেন শেষ পর্যন্ত কৃষকের ঘাড়ে না পড়ে- এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকের কাছে সার পৌঁছানো সরকারি কৃষিনীতি ও ভর্তুকি ব্যবস্থার একটি মৌলিক উদ্দেশ্য। সেই সার যদি কোথাও অনিয়ম করে আটকে রাখা হয়, তাহলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হন মাঠের কৃষক।

অন্যদিকে, নিয়ম মেনে নিজের কৃষিকাজের জন্য সার সংগ্রহ করা কৃষককে অযথা হয়রানি বা সন্দেহের চোখে দেখার সুযোগও থাকা উচিত নয়। অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান হবে কিন্তু তার লক্ষ্য হতে হবে অনিয়মের উৎস ও সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা; কৃষক নয়।

দীঘিনালার এই ঘটনা তাই শুধু ২১ টন সার জব্দ ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানার খবর নয়। এটি সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ডিলার পর্যায়ের জবাবদিহি এবং কৃষকের প্রাপ্য সার সময়মতো কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না- সেই বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version