দারিদ্র্য হ্রাস এবং বস্তি এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাদ্দ হওয়া প্রায় পাঁচ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প যশোরের মনিরামপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, বস্তিবাসীর উন্নয়নের নামে বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হচ্ছে বস্তির বাইরে বিভিন্ন এলাকায়। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী পর্দার আড়াল থেকে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

ইতোমধ্যে প্রকল্পের দুই কিস্তিতে এক কোটি ২১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজের মান নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আরসিসি ড্রেন ও ফুটপাতের ঢালাই এতটাই নিম্নমানের যে হাত দিয়েই ভেঙে উঠে যাচ্ছে সদ্য নির্মিত অংশ।

পৌরসভা সূত্র জানায়, নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইইউজিআইপি)-এর আওতায় ২০২৪ সালে পাঁচটি বস্তি এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের লিনিক কমিটি গঠন করে তাদের মাধ্যমেই কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ সদস্যই প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী, বিশেষ করে কার্যসহকারী তপু এস এম আব্দুর রশিদসহ একটি প্রভাবশালী চক্র কেনাকাটা থেকে শুরু করে কাজ বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবদের দিয়ে শুধু কাগজপত্র ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে, কিন্তু প্রকল্প পরিচালনায় তাদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না।

বিজয়রামপুর, জুড়ানপুর ও দুর্গাপুর লিনিক কমিটির একাধিক সদস্য সচিব জানান, তারা কেবল নামমাত্র দায়িত্বে ছিলেন; প্রকল্পের বাস্তব কাজ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চার ইঞ্চি পুরু আরসিসি ঢালাইয়ের পরিবর্তে অনেক স্থানে মাত্র দুই থেকে আড়াই ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের তদারককারী আইইউজিআইপির প্রতিনিধিদলও এই অনিয়মের সত্যতা পেয়ে পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশও কার্যকর করা হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইজাহার আলীর অভিযোগ, ড্রেনের ঢালাই হাতের স্পর্শেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, নিম্নমানের কাজ করে জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে।

বস্তি উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হওয়া কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্পে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্তে কী বেরিয়ে আসে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আদৌ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর সবার।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version