প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ অব্যাহত; সরকারি খাসজমি নিজের নামে রেকর্ড ও রেজিস্ট্রির অভিযোগ বর্তমান বিএনপি সরকার পরিচালিত নেতার বিরুদ্ধে।
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমিতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হাশেমের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের একাধিক নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার ছাদের ঢালাই সম্পন্ন করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি ১০ তলা পর্যন্ত নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে ১০ শতাংশ জমির ওপর শক্তিশালী ফাউন্ডেশন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের গৌরীপুর বাজার এলাকায়, গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পাশে নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাশেমের তত্ত্বাবধানে ভবনটির নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি খাসজমিটি দখলের চেষ্টা চলছিল। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে না চাইলেও অনেকেই দাবি করেছেন, ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত জমি কৌশলে আত্মীয়ের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে পরবর্তীতে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
১৯৮৮ সালে মাসুদ আলম নামে এক ব্যক্তিকে ভূমিহীন হিসেবে দেখিয়ে ১০ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। শর্ত ছিল সেখানে বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করতে হবে। তবে তিনি কখনো সেখানে বসবাস করেননি। পরবর্তীতে জমিটি গোপনে আবুল হাশেমের নামে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর জমিটিতে দ্রুতগতিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিলে প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর ভূমি প্রশাসন তদন্তে নেমে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পায়।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল হাশেম বলেন, জমিটি তার চাচাতো ভাই মাসুদ আলমের নামে বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি ও রেকর্ডের মাধ্যমে তিনি মালিকানা লাভ করেন এবং বর্তমানে সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন।
তবে প্রশাসন বলছে, সরকারি খাসজমি ব্যক্তিগত নামে রেজিস্ট্রি ও বিএস রেকর্ড করার পুরো প্রক্রিয়াটি বেআইনি। দাউদকান্দির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেদওয়ানুল ইসলাম জানান, তথ্য গোপন করে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত নামে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গভর্নমেন্ট প্লিডারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার বলেন, জমিটি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। একাধিকবার নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আদালতে মামলা করার কার্যক্রম চলছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মশিউজ্জামানও একই ধরনের মন্তব্য করে বলেন, সরকারি খাসজমিতে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে প্রশাসন।
এদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, কোনো ব্যক্তির অনিয়ম বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারি সম্পত্তি দখল ও প্রভাব খাটিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


