খুলনা মহানগরীতে চার সাংবাদিককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নগরীর ব্যস্ত এলাকায় গভীর রাতে এমন হামলার ঘটনা শুধু সাংবাদিকদের নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকরাও নিরাপদ নন।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে নগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের চায়ের দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে বসে আলাপ করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হেলমেটধারী যুবক তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গুলিটি এসএ টিভির খুলনা ব্যুরো প্রধান রকিবুল ইসলাম মতির বসা প্লাস্টিকের টুলে আঘাত হানে। গুলির স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের জেলা প্রতিনিধি আওয়াল শেখ। ঘটনাস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন স্টার নিউজের ব্যুরো প্রধান রফিউল ইসলাম টুটুল এবং দৈনিক আমাদের সময়ের খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির। আহত সাংবাদিক বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা বলেন, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা এবং সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কাউকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই এবং প্রযুক্তিগত তদন্ত সংস্থাগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার খুলনা প্রেস ক্লাব চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে)। বক্তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাংবাদিক-কেউই নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না। তাদের দাবি, একের পর এক হামলা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি খুলনায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও দায়ীদের পরিচয় প্রকাশ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version