নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেনের প্রবাসী বোনের বাসায় সংঘটিত দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় শ্রমিক দলের এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চুরি হওয়া মূল্যবান মালামাল স্থানীয় একটি ভাঙারি দোকানে বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযানে চুরি যাওয়া একটি রেফ্রিজারেটর ও ভাঙা অবস্থায় একটি টেলিভিশন উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নাহিদ হোসেনের বোন সাদিয়া আক্তার ও তাঁর স্বামী রাজিবুল আলম দীর্ঘদিন ধরে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছেন। বন্দর উপজেলার হাজীপুর এলাকায় অবস্থিত তাঁদের চারতলা ভবনটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন নাহিদ হোসেন।

গত ১৯ জুলাই গভীর রাতে সংঘবদ্ধ চোরচক্র ভবনটির একটি ফ্ল্যাটের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর নাহিদ হোসেন বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে।

তদন্তের একপর্যায়ে ২০ জুলাই সকালে ভবনের দুই ভাড়াটে রফিক ও লাবনী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে এবং চুরি করা মালামাল বিক্রির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুলাই রাতে বন্দর রেললাইন এলাকার একটি ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে দোকানটির মালিক, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল গাজীকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি চুরি হওয়া মালামাল কিনে নিজের দোকানে সংরক্ষণ করেছিলেন।

বন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি জিজ্ঞাসাবাদে চুরি করা মালামাল বাবুল গাজীর কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। উদ্ধার হওয়া আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িত পলাতক আরেক সদস্যকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুরো চোরচক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে নিবিড় তদন্ত চলছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version