দেশজুড়ে প্রায় তিন সপ্তাহের তীব্র গ্যাস সংকটে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শিল্পখাত। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় স্টিল, সিমেন্ট, কাচ, টেক্সটাইলসহ গ্যাসনির্ভর ভারী শিল্পের অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, সরকারের অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন জ্বালানি ব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন ভয়াবহ হচ্ছে।

দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানিয়েছেন, কারখানা চালানোর মতো ন্যূনতম গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। একইভাবে টি কে গ্রুপের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। আরএফএল গ্রুপে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৫০ শতাংশের নিচে।

হবিগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় ১৭১টি শিল্পকারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন। গাজীপুরেও গ্যাস সংকটে প্রায় ৫২৫টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। চালু থাকা অনেক কারখানায় উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতও সংকটে পড়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য অনুযায়ী, অনেক কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। টেক্সটাইল মিলগুলোর অধিকাংশও উৎপাদন চালাতে পারছে না।

শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, ডিজেল দিয়ে বিকল্পভাবে কারখানা চালাতে গেলে উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর হিসাবে, প্রতিদিন ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল ব্যবহারে প্রায় ৭০ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।

এদিকে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় ও বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ- সবকিছুর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version