একসময় যে বাংলাদেশে ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ পৌঁছে দেওয়াকে উন্নয়নের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছিলো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই বিদ্যুৎ খাতই এখন সবচেয়ে সংকটের আলোচনায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সঞ্চালন অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে খাতটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

শেখ হাসিনা সরকারের অন্যতম বড় অঙ্গীকার ছিল দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে গত দেড় দশকে একের পর এক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। শহরের পাশাপাশি চরাঞ্চল, দ্বীপ, পাহাড় ও দুর্গম এলাকাতেও বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ। কোথাও নতুন সঞ্চালন লাইন, কোথাও সাবমেরিন কেবল, বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় দেশকে আনা হয়।

শুধু সংযোগ বাড়ানো নয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও নেওয়া হয় বড় বড় প্রকল্প। মাতারবাড়ীসহ একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগের পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।

শেখ হাসিনার সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানুষের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং শতভাগ বিদ্যুতায়নের পথে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া। কিন্তু ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বদলে গেছে বাস্তবতা। আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, বদলে যাচ্ছে কি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতও? ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারকে পতনের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনে দেশের বিদ্যুৎ খাত এখন অব্যবস্থাপনা ও অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে। যে খাতে গত দেড় দশকে বিপুল বিনিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরি হয়েছিল, যথাযথ পরিকল্পনা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার অভাবে সেই অর্জনগুলো এখন ধ্বংসের মুখে।

একসময় শেখ হাসিনার ‘ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ ছিল বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার প্রতীক। যে বাংলাদেশ একসময় শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছিল, সেই বাংলাদেশকে আবার বিদ্যুৎ সংকটের দিকে যেতে দেওয়া হল কেন, এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version