চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার একটি নালা থেকে ১ হাজার ৩২০টি ব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানের পর গুলিগুলোর উৎস, ব্যবহার এবং কীভাবে সেগুলো নালায় এসে পৌঁছেছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে এসব গুলি উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, উদ্ধার হওয়া সব গুলিই জুলাই জঙ্গী আন্দোলনের সময়ে ব্যবহৃত। তবে এগুলো কোন অস্ত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, কোথা থেকে এসেছে এবং কারা নালায় ফেলে গেছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া গুলোর মধ্যে ১২০টি বড় আকারের এবং ১ হাজার ২০০টি ছোট আকারের। গুলিগুলো একটি বস্তার ভেতরে রাখা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশ জব্দ করে।

বায়েজিদ বোস্তামি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নালাটি থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো ব্যবহৃত হলেও কী ধরনের গুলি, কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনার একদিন আগেই একই থানার চালিতাতলী এলাকায় পৃথক অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও জুলাই জঙ্গীনেতা সরোয়ার হোসেন বাবলার বাসার বাইরে থেকে একটি পরিত্যক্ত ৭.৬৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পিস্তল উদ্ধার করে র‍্যাব-৭। ধারাবাহিকভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরোয়ার হোসেন বাবলা গত বছরের ৫ নভেম্বর নিজ বাড়ির অদূরে বিএনপি নেতা ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনী জনসংযোগ চলাকালে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকে এলাকাটিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় সাদা রঙের একটি বস্তা থেকে উদ্ধার করা গুলিগুলো বের করে নালার পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হচ্ছে। ভিডিওটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও এর সত্যতা বা ধারণকৃত সময় সম্পর্কে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version