দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জননিরাপত্তাহীনতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত সর্বশেষ অর্ধবার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদনে। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে মব সহিংসতার ২৬১টি ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণ গেছে আরও ৫৬ জনের।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মব সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যক্তিগত বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এসব ঘটনায় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা দুর্বল হচ্ছে।

এইচআরএসএসের তথ্য বলছে, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতা ও দলীয় কোন্দলে ৫৬ জন নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ হাজার ২৪৬ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩৯৬টি সহিংস ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৮ জন। এছাড়া নির্বাচনপূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

এসব পরিসংখ্যান বর্তমান সরকারের আমলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দল ও মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, অপরাধ দমন, মব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দিতে পারেনি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও বিচারহীনতার আশঙ্কা বাড়ছে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের মতো সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান না হলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং মব সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়া বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব। অন্যথায় সহিংসতা ও অস্থিরতার এই প্রবণতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version