নওগাঁর বদলগাছীতে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির এবং আলফা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপু (৫০)-এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা স্কুলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সোমবার সকালে প্রবল বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এ সময় এক স্কুলছাত্রীকে একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক তার ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আত্মগোপনে চলে যান বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয় ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং ভবনের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বলেন, “একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন জঘন্য আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার প্রতিবাদে ভান্ডারপুর চারমাথা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান সনি এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন বাতিলসহ তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
বদলগাছী থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


